গুলশান আরা রুবী::
১.
নীলগিরির ওপার হতে মেঘের ঘন ঘটা, চৈত্রদিনের শান্ত রোদে অকাল আঁধার ছটা। হিমালয়ের কান্না নামে পাহাড়িয়া ঢলে, শান্তিডুবা হাওরভূমি ভাসল অথৈ জলে। যেথা ছিল ধানের সাগর, সবুজ মখমল তলে, সেথা আজ হাহাকার জাগে মরণ-শীতল জলে।
২.
বাঁধ ভাঙিল শব্দ করে, যেন সহস্র বাজ, নিমিষেই শেষ হলো কৃষাণের সব কাজ। কাঁচা সোনার ধানগুলো আজ জলের তলে বন্দি, প্রকৃতি মা গো কেন করলে এমন নিষ্ঠুর সন্ধি? মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে ধান রোপিল হাতে, সেই ধান্য আজ ভেসে যায় নিঠুর আঁধার রাতে।
৩.
গোয়াল ভরা গরুর দল, আর্তনাদ করে ফেরে, আশ্রয়হীন মানুষগুলো সুখটুকু নিল কেড়ে। ছোট্ট কুটির তলায় গেল, চুলায় জ্বলল না আলো, হাওরবাসীর আকাশ জুড়ে কেবল মেঘ কালো। বুকের ধন হারানো মায়েরা স্তব্ধ পাথরসম, অকাল বন্যা বিধাতা কেন এমন নির্দয়-বিষম
৪.
তবুও মানুষ লড়ে যায় অজেয় সাহস লয়ে, ঢেউয়ের সাথে যুদ্ধ করে মৃত্যুর ভয় সয়ে। হাওর তীরের সেই মানুষ, মাটির কাছাকাছি, বন্যার বুকে দাঁড়িয়ে বলে— "এখনো তো আমি বাঁচি!" শোকের দহন পুড়িয়ে তাদের খাঁটি সোনা করে, নতুন ভোরের স্বপ্ন জাগে রিক্ত শূন্য ঘরে।
৫.
মহাকাব্য শেষ হয় না, এ যে অন্তহীন এক লড়াই, হাওর পাড়ের মানুষের এই তো আসল বড়াই। জলে ডুবি, জলে ভাসি, জলেই আমাদের বাস, দুঃখের শেষে ফিরে আসবেই রঙিন হাসফাঁস।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
হাওর কথন
- আপলোড সময় : ১৭-০৫-২০২৬ ০৯:১৬:১৮ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৭-০৫-২০২৬ ১১:১৮:১৫ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সুনামকন্ঠ ডেস্ক